লন্ডনে NCP UK Alliance কনভেনিং কমিটির উদ্বোধনী সভা

লন্ডনে NCP UK Alliance কনভেনিং কমিটির উদ্বোধনী সভা:

ঐক্য, প্রবাসী অধিকার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অঙ্গীকার

তারিখ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
স্থান: আইভি ভেন্যু (Ivy Venue), ২৫২ রমফোর্ড রোড, E7, লন্ডন
প্রধান অতিথি: এনসিপি কনভেনর নাহিদ ইসলাম
সভাপতি: মাকসুদুল হক সাকুর, কনভেনর, NCP UK Alliance
সঞ্চালনা: নাইমুল ইসলাম, ইউকে চিফ অর্গানাইজার, NCP UK Alliance; এবং এমডি এম এ হিমেল, সদস্য সচিব , NCP UK Alliance
কুরআন তিলাওয়াত: শাহিন আহমেদ

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)–এর যুক্তরাজ্য শাখা NCP UK Alliance–এর কনভেনিং কমিটির উদ্বোধন সভা লন্ডনের আইভি ভেন্যুতে অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের সংগঠক, নির্বাহী ও সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল কুরআন তিলাওয়াত, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি এবং সমাপনী পর্ব।

এই উদ্বোধন সভার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও রাষ্ট্র সংস্কারের পথে প্রবাসী কমিউনিটির কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সভাপতির বক্তব্য: প্রতিবাদ, অধিকার ও প্রবাসী আন্দোলনের স্বীকৃতি

সভাপতির বক্তব্যে NCP UK Alliance–এর কনভেনর মাকসুদুল হক সাকুর দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনসাধারণকে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতি জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এ বিষয়ে সচেতন ও সংগঠিত প্রতিবাদ প্রয়োজন।

একই বক্তব্যে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)–এর ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন এবং বিশেষভাবে NCP UK Alliance–এর সক্রিয় ও সাহসী অবদানকে স্বীকৃতি দেন এবং সংগঠিত প্রবাসী আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্য: ঐক্য ও ডায়াসপোরা শক্তি

উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হতে পারে।

UK নেতৃত্বের বার্তা: অভিনন্দন, ঐক্য ও ন্যায়বিচারের দাবি

অনুষ্ঠানে ইউকে সিনিয়র জয়েন্ট কনভেনর ড. ইমা ইসলাম কনভেনিং কমিটির সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান। তিনি সংগঠনের ভেতরেঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সামনের দিনের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি ওসমান হাদী–র ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন|

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য: সমন্বয়, সত্য তথ্য ও প্রবাসীদের অবদান

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণ সভাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

  • ড. তাসনিম জারা (সিনিয়র জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি, সেন্ট্রাল) জুলাই আন্দোলনের সময় যুক্তরাজ্য থেকে দৃঢ় প্রতিবাদ, সংহতি ও সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন।
  • ড. তাজনুভা জাবীন (জয়েন্ট কনভেনর, সেন্ট্রাল) উপস্থিত সবাইকে সময়, ধৈর্য ও পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও ইউকে ডায়াসপোরার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য বিনিময় ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি তিনিঅনলাইনে অপপ্রচার/ভুয়া তথ্য মোকাবিলা এবং সত্যভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
  • চিফ কো-অর্ডিনেটর নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী অনলাইনে যুক্ত হয়ে ১৯৭১ ও ২০২৪–সহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং প্রবাসীদের সংগঠিত ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য: সংগঠন শক্তিশালীকরণ ও গণতান্ত্রিক চর্চার দিকনির্দেশনা

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এনসিপি সেন্ট্রাল কনভেনর নাহিদ ইসলাম বক্তব্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি গণতান্ত্রিক চর্চা, জনসম্পৃক্ততা এবং প্রবাসী কমিউনিটির অংশগ্রহণকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের মতো ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়।

অতিথি উপস্থিতি: AB Party–এর প্রতিনিধিদ্বয়

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে AB Party–এর দুইজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন—

  • মুজাহিদ, AB Party, ইউকে জয়েন্ট সেক্রেটারি
  • আবদুর গাফফার, AB Party জয়েন্ট সেক্রেটারি (সেন্ট্রাল) ও ইউকে সেক্রেটারি

তাঁরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং প্রবাসীদের অধিকার ও ভোটাধিকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যান্য বক্তাদের মূল বক্তব্য: ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতা বিষয়ে উদ্বেগ

সভায় যুক্তরাজ্য শাখা ও বিভিন্ন অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বক্তব্য দেন।

  • ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান (জয়েন্ট কনভেনর, UK) সভায় বক্তব্য রাখেন এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ও ঐক্যবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
  • NCP UK Alliance এর সদস্য সচিব, এমডি এম হিমেল, NCP UK Alliance সাথে NCP Central সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন| এনসিপি কনভেনর নাহিদ ইসলাম উনার সাথে একমত পোষণ করেন
  • নাইমুল ইসলাম (ইউকে চিফ অর্গানাইজার) বক্তব্যে ভারতীয় আধিপত্য, বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান।
  • জানাল আবেদিন (ফাইন্যান্স সেক্রেটারি) স্বাধীনতা ও জাতীয় চেতনা প্রসঙ্গে কথা বলেন।
  • মাহমুদ রহমান ইকবাল (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর সেক্রেটারি) অতীতের দুঃশাসনে নিপীড়ন, ব্যাংক লুটপাট এবং নির্বাচন কারচুপির ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেন।
  • হাবিবুর রহমান (ট্রেনিং সেক্রেটারি) শহীদদের স্মরণ করেন এবং জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা হাদী–কে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও সংহতি প্রকাশ করেন।
  • আনসার (রিজিওনাল অর্গানাইজার, লন্ডন) দলীয় কাঠামো ও দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
  • ফারিহা ফাহি (জয়েন্ট সেক্রেটারি, NCP UK Alliance) সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দায়িত্বের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
  • জাকির চৌধুরী (ইস্ট অব ইংল্যান্ড অর্গানাইজার) ওসমান হাদী–র ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অতীতের সংকট (১৯৭১, ২০০৯, ২০২৪) অতিক্রম করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান।
  • রাইসা রাহা (এক্সিকিউটিভ মেম্বার) হাদীর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।
  • ইকবাল হুসাইন (রিজিওনাল অর্গানাইজার, বার্মিংহাম ও মিডল্যান্ডস) নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
  • শারমিন পাপড়ি (জয়েন্ট পলিসি অ্যান্ড লবিং সেক্রেটারি) নীতি, অ্যাডভোকেসি ও লবিং কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
  • এছাড়া শানা আক্তার, ফররুদ্দিন, আল আমিন শৌরভ, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাব্বির চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মাইনুল হাসান (নতুন সদস্য), শাহিন আহমেদ (লন্ডন রিজিওন অর্গানাইজার), আনাস আহমেদ, জুবেদা আক্তার সোনিয়া, মোহাম্মদ আবদুল আলিমপ্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী: রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং প্রবাসী কমিউনিটির ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এটি উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তি শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাকে উজ্জীবিত করে।

রিজিওনাল ও কমিটি সেগমেন্ট: প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি

অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল “রিজিওনাল ও কমিটি সেগমেন্ট”—যেখানে লন্ডন, নর্থওয়েস্ট, বার্মিংহাম, কেমব্রিজ অঞ্চলের প্রতিনিধিদের পর্যায়ক্রমে মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ মেম্বারসেক্রেটারিয়েট মেম্বারদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এই অংশটি সাংগঠনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব এবং সম্মিলিত দায়বদ্ধতার বার্তা দেয়।

সমাপনী পর্ব

সমাপনী পর্বে চূড়ান্ত বক্তব্যের পর কেক কাটার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে প্রীতিভোজ পরিবেশনের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি, বক্তব্য ও আন্তরিক অংশগ্রহণ উদ্বোধন সভাটিকে অর্থবহ ও সফল করে তোলে।

উপসংহার

এই উদ্বোধন সভা NCP UK Alliance–এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সভা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সংগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ন্যায়বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং প্রবাসীদের অধিকারবিশেষ করে ভোটাধিকার—নিয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মিডিয়া যোগাযোগ: Mahmud Rahman Ikbal, 07577178376 Media & PR Secretary, NCP UK Alliance